অসহায় মানুষের পাশে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম: ইসলাম ও আমাদের দায়িত্ব

অসহায় মানুষের পাশে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম, দান, ত্রাণ সহায়তা, এতিম শিশু সহায়তা ও সমাজসেবায় একসাথে হাত বাড়ানো মানবিকতার প্রতীক

বিষয়বস্তু তালিকা

সৎকর্মের সবচেয়ে সুন্দর রূপগুলোর একটি হলো একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। শুধু দুই হাত তুলে দোয়া করা নয়, দুই হাত বাড়িয়ে সাহায্য করা। একজন মুমিনের দায়িত্ব শুধু নিজের ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তার দায়িত্ব ছড়িয়ে আছে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি অসহায় মানুষের দরজায়। আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন ঠিক এই বিশ্বাস থেকে জন্ম নিয়েছে এবং আমাদের এই পথচলায় আমরা নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

“যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে- যে উত্তমভাবে কাজ করে আমি তার কর্মফল বিনষ্ট করি না।” (সূরা আল-কাহফ : ৩০)

মাকড়সার জাল যেমন ছোট হলেও অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় বোনা হয়, আমরাও তেমনি ছোট ছোট এই কাজের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও সহমর্মী সমাজ গড়তে চাই। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ একটি কথা মাথায় রেখে পরিচালিত হয় – ”অটুট বন্ধনে, মানুষের পাশে।”

শীতকালীন বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ

শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণের জন্য সাজানো রঙিন কম্বল, শীতার্ত মানুষের সহায়তা কার্যক্রম

শীতের রাতে যখন আমরা লেপের উষ্ণতায় ঘুমাই, তখন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে শীতে কাঁপতে থাকে। বৃদ্ধ দাদু যার গায়ে একটা পাতলা কাপড়, পথশিশু যে ফুটপাতে কুঁকড়ে শুয়ে আছে, দিনমজুর যার ঘরের চালে বাতাস ঢোকে, এদের কথা কি আমরা ভুলে যেতে পারি?

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তা’আলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন।” (সহিহ মুসলিম : ২৬৯৯) [সংক্ষেপিত]

ভেবে দেখুন তো সেই বৃদ্ধ দাদুর কথা, যার জরাজীর্ণ পাতলা চাদরটি শীতের প্রকোপ ঠেকানোর বদলে শরীরের কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়। ভেবে দেখুন সেই মায়ের কথা, যিনি তার সন্তানকে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে নিজের গায়ের জীর্ণ আঁচল দিয়ে জড়িয়ে ধরে নির্ঘুম রাত কাটান। উত্তরবঙ্গের হিমেল হাওয়ায় যখন তাপমাত্রা এক ডিজিটে নেমে আসে, তখন একটি কম্বল তাদের কাছে কেবল একটি কাপড় নয়, বরং এক টুকরো জীবনের সমান। 

এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন প্রতি শীত মৌসুমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় শীতবস্ত্র ও কম্বল পৌঁছে দেয়। যা শুধু একটি কাপড় নয়, বরং এক টুকরো জীবনের সমান, একটি পরিবারের স্বস্তির নিঃশ্বাস।

আপনার একটি দান এই শীতে কারো রাত বদলে দিতে পারে। এখানে ক্লিক করে দান করুন

রমজান মাসে ইফতার ও সেহরি বিতরণ

রমজানে দরিদ্র পরিবারের জন্য চাল ডাল তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম

রমজান মাস রহমতের মাস, ভাগ করে নেওয়ার মাস। আমরা যখন ইফতারের দস্তরখানে বসি, তখন একবার কি আমরা ভেবে দেখি সেই রিকশাচালক ভাইয়ের কথা? যিনি সারাদিন তপ্ত রোদে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে রোজা রেখে ইফতারের সময় হয়তো এক ঢোক পানি আর রাস্তার ধারের সাধারণ একটু খেজুর দিয়েই দিন শেষ করেন। আমরা কি খবর রাখি সেই মাটির ঘরের মাটির মানুষগুলোর, যাদের কাছে সেহরিতে এক মুঠো সাদা ভাত আর একটু ডালই হলো বিলাসিতা?

রমজান মানে তো শুধু না খেয়ে থাকা নয়, রমজান হলো অন্যের অভাব অনুভব করার মাস। আমরা যখন আমাদের পরিবারের সাথে তৃপ্তিসহকারে ইফতার করি, তখন আমাদের খুব কাছেই কোনো এক বস্তিতে এক মা তার সন্তানদের নিয়ে অপলক চেয়ে থাকেন পথের পানে, যদি কেউ একটু ভালো খাবার নিয়ে আসতো! সেই নিষ্পাপ শিশুগুলোর ক্ষুধার্ত চোখের আকুতি আর ইফতারের সময় এক টুকরো ফলের জন্য তাদের অপেক্ষা আমাদের হৃদয়কে কি নাড়া দেয় না?

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,

“কোনো রোজা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যেও রোজা পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।” (তিরমিজি : ৮০৭)

ভেবে দেখুন, মাত্র একজনের ইফতারের ব্যবস্থা করে আপনি অনায়াসেই আরেকটি পূর্ণ রোজার সওয়াব নিজের আমলনামায় যোগ করতে পারছেন। এটি কেবল খাবার বিতরণ নয়, এটি একটি ইবাদত এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।

আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন রমজান মাসজুড়ে পথচারী, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর কাছে ইফতার ও সেহরির প্যাকেট পৌঁছে দেয়। হাজারো রোজাদারের মুখে হাসি আর তাদের আন্তরিক দোয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং সার্থকতা।

ঈদুল আযহায় কোরবানির মাংস বিতরণ

ঈদুল আযহায় অসহায় পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম

ঈদের সকাল। চারদিকে তাকবির ধ্বনি আর খুশির আমেজ…

নতুন পোশাকে শিশুরা মেতে ওঠে আনন্দে, প্রতিটি ঘরে ঘরে চলে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। কিন্তু এই উৎসবের আবহেও আমাদের সমাজের এক কোণে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের কাছে ঈদের দিনটি অন্য দশটি সাধারণ দিনের মতোই সংগ্রামের। আমরা যখন কোরবানির রান্নার সুগন্ধে তৃপ্ত হই, তখন হয়তো আমাদের খুব কাছেই কোনো এক বস্তিতে বা জীর্ণ কুটিরে একদল শিশু তাকিয়ে থাকে প্রতিবেশীর দরজার দিকে, যদি একটু মাংসের দেখা মেলে!

ভেবে দেখুন তো সেই বাবার কথা, যিনি সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও ঈদের দিন সন্তানদের পাতে এক টুকরো মাংস তুলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। যে শিশুটি সারাবছর অপেক্ষায় থাকে ঈদের দিন একটু পেট ভরে মাংস দিয়ে ভাত খাবে, তার সেই স্বপ্ন যখন অপূর্ণ থেকে যায়, তখন ঈদের আনন্দ তার কাছে ম্লান হয়ে পড়ে। কোরবানি কেবল একটি পশু জবেহ করা নয়, বরং এটি হলো নিজের সামর্থ্যকে আর্তমানবতার তরে বিলিয়ে দেওয়ার একটি ইবাদত। কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় আমাদের তাকওয়া এবং নিয়ত। আল্লাহ তাআলা কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন:

“যাতে তারা তাদের জন্য (এখানে রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। কাজেই তোমরা (নিজেরা) তাত্থেকে খাও আর দুঃস্থ অভাবীদের খাওয়াও।” (সূরা হজ: ২৮)

কোরবানির মাংসের একটি নির্দিষ্ট অংশ অসহায়দের জন্য রাখা কেবল দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার। যখন আমরা আমাদের কোরবানির অংশ তাদের মাঝে বিলিয়ে দেই, তখনই ঈদের প্রকৃত সার্থকতা ফুটে ওঠে। আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ঈদুল আযহায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর দরজায় কোরবানির মাংস পৌঁছে দেয়, যাতে ঈদের আনন্দ কেবল সচ্ছলদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

অনেক পরিবার এমন আছে যারা লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারে না, আমরা খুঁজে খুঁজে সেই সব মানুষের দরজায় কোরবানির মাংসের প্যাকেট পৌঁছে দিই। আমাদের লক্ষ্য কেবল মাংস বিতরণ নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন অনুভব করতে পারে, এই ঈদে তারাও একা নয়, আমরা তাদের পাশে আছি। আপনাদের দেওয়া আমানত যখন একটি অভাবী পরিবারের চুলোয় হাঁড়ি চড়ায়, তখন তাদের মুখের সেই অকৃত্রিম হাসিই আমাদের পরম তৃপ্তি।

চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম

বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম, অসহায় রোগীদের পাশে আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন

একজন অসুস্থ মানুষ যখন ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না শুধুমাত্র টাকার অভাবে, তখন সেই কষ্টটা শুধু শারীরিক থাকে না, মানসিকও হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকতে থাকে। ওষুধ কিনতে পারে না, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ জোগাতে পারে না, হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে নিজের শেষ সম্বল টুকুও বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এজন্য আমাদের সকলের উচিৎ সেই সকল মানুষদের প্রতি বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে করে তাঁরা একটি সুন্দর-শান্তিময় একটি জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতে থাকে সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত বেহেশতের ফলমূল আহরণে রত থাকে।” (সহিহ মুসলিম : ২৫৬৮)

আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ায়। ওষুধ কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা পর্যন্ত। দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মা, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশু, বয়স্ক মানুষ যাদের নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন, প্রত্যেকের জন্য আমরা সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করি। জরুরি প্রয়োজনে রক্তের ব্যবস্থা করা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সঙ্গে রোগীর সংযোগ তৈরি করা এবং রক্তদান সচেতনতা বৃদ্ধি করাও আমাদের মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একজন অসুস্থ মানুষের সুস্থতায় সহায়তা করা-এর চেয়ে বড় মানবিক কাজ কমই আছে। আপনার দানে হয়তো একটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাবে।

বন্যাদুর্গত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ সহায়তা

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা, বন্যাকবলিত গ্রামে মানবিক কার্যক্রম

যখন চোখের পলকে সবটুকু স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে যায়…

বন্যার প্রকোপে যখন একটি পরিবারের তিলে তিলে গড়া ঘর, আসবাবপত্র, শেষ সম্বলটুকু আর স্বপ্নগুলো ভেসে যায়, তখন সেই মুহূর্তের হাহাকার কেবল তারাই বোঝে যারা সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষ মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। একটু শুকনো জায়গার খোঁজে কোলের শিশুকে নিয়ে মা যখন অথৈ পানিতে লড়াই করেন, কিংবা একজন বাবা যখন তার সারা বছরের কষ্টের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখেন, তখন তাদের কাছে এক মুঠো খাবার বা এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পুরো পৃথিবীর সমান মনে হয়।

বিপদে পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের প্রিয় নবী ﷺ মুমিনদের ভ্রাতৃত্বকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন:,

“পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মু’মিনদের একটি দেহের মত দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়।” (সহিহ বুখারি : ৬০১১)

যখন আমাদের দেশের কোনো এক প্রান্তের মানুষ বন্যায় কষ্টে থাকে, তখন ঘরে বসে শান্তিতে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি সামাজিক কাজ নয়, বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেয়। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিয়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল সরাসরি মাঠে নামে। কেবল খাবার দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না; দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে আমরা তাদের আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাই। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি টাকা তখন একেকটি মানুষের জীবন রক্ষার ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।

এতিম শিশুদের সহায়তা কার্যক্রম

এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সহায়তা কার্যক্রম, অসহায় শিশুদের পাশে মানবিক উদ্যোগ

একটি শিশু যখন বাবার কাঁধে চড়তে পারে না,কিংবা যখন কষ্টের দিনে মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে একটু শান্তি খোঁজার সুযোগ পায় না, সেই হৃদয়ের বিশাল শূন্যতা পূরণ করার সাধ্য এই পৃথিবীর কারও নেই। আমাদের চারপাশেই এমন অনেক শিশু আছে, যাদের শৈশবটা কাটে একরাশ অবহেলা আর অনিশ্চয়তায়। যেখানে অন্য শিশুরা বায়না ধরে নতুন খেলনা বা ভালো খাবারের জন্য, সেখানে একজন এতিম শিশুর সারা দিনের প্রার্থনা থাকে কেবল এক মুঠো অন্ন আর একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। তাদের চোখের সেই নিরব আকুতি কি আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে না? তার পাশে দাঁড়ানো, তার লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠার পথটা সহজ করে দেওয়া, এটুকু আমরা করতে পারি। আমাদের প্রিয় নবী ﷺ নিজে এতিম ছিলেন, তাই তিনি এই যন্ত্রণার গভীরতা জানতেন। তিনি বলেছেন: 

“আমি ও ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এমনিভাবে নিকটে থাকবে।”এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দু’টি দ্বারা ইঙ্গিত করলেন এবং এ দু’টির মাঝে কিঞ্চিত ফাঁক রাখলেন। (সহিহ বুখারি : ৫৩০৪)

আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন এতিম শিশুদের শিক্ষা সহায়তা, পোশাক, চিকিৎসা ও মানসিক বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একজন এতিম শিশুর মুখের হাসি আমাদের পথ চলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তি কার্যক্রম

শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তি কার্যক্রমের প্রতীক খোলা বই, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন

আমাদের চারপাশে এমন অনেক শিশু আছে যাদের চোখে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, কিন্তু হাতে নেই একটি নতুন খাতা কেনার সামর্থ্য। যখন একটি মেধাবী শিশু টাকার অভাবে স্কুলের পোশাক কিনতে পারে না কিংবা পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে মলিন মুখে স্কুল থেকে ফিরে আসে, তখন কেবল একটি শিশুর স্বপ্ন ভাঙে না, বরং একটি জাতির সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। বইয়ের পাতায় যাদের মুখ গুঁজবার কথা ছিল, পেটের দায়ে তাদের আজ শ্রমিকের হাতুড়ি ধরতে হচ্ছে। এই করুণ দৃশ্য কি আমাদের বিবেকে নাড়া দেয় না? 

দারিদ্র্য যেন কোনো মেধাবী শিশুর স্বপ্নের পথে দেয়াল না হয়ে দাঁড়ায়, এই লক্ষ্যে আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়। বই-খাতা, স্কুলের পোশাক, পরীক্ষার ফি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি,  প্রতিটি উদ্যোগ একটি সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বলা হয়েছে। একটি শিশুর শিক্ষায় সহায়তা করা তাই শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সদকায়ে জারিয়ার সবচেয়ে অর্থবহ রূপগুলোর একটি ,যার সওয়াব মৃত্যুর পরেও বহমান থাকে।

বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম

বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে গাছ লাগানোর মানবিক উদ্যোগ

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আজ আমরা যে গাছের ছায়ায় বসে জিরিয়ে নিচ্ছি বা যে সুমিষ্ট ফল খেয়ে তৃপ্ত হচ্ছি, তা হয়তো অনেক বছর আগে কেউ একজন পরম মমতায় লাগিয়েছিলেন? আজ যখন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি আর তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে, তখন একটি গাছ লাগানো কেবল শখের কাজ নয়, বরং পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। প্রকৃতি আমাদের যা দেয়, তার প্রতিদান হিসেবে আমরা কি পারি না একটি করে চারা রোপণ করতে? 

ইসলামে পরিবেশ রক্ষা করা ইবাদতের অংশ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কোনো মুসলিম যদি  ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা হতে পাখী কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ হতে সাদাকা্ বলে গণ্য হবে।” (সহিহ বুখারি : ২৩২০)

আল আনকাবুত ফাউন্ডেশন প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুস্থ পৃথিবী রেখে যেতে চাই। একটি গাছ লাগানো মানে একটি চলমান সদকা, যা দশকের পর দশক ধরে মানুষ ও প্রকৃতিকে সেবা দিতে থাকে।

আপনিও হতে পারেন পরিবর্তনের কারণ

একতার প্রতীক, আনকাবুত ফাউন্ডেশন

মানবিক কাজ করতে হলে বড় মানুষ হতে হয় না,  বড় হৃদয় থাকলেই যথেষ্ট। আল আনকাবুত ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হওয়ার দুটি পথ খোলা আছে আপনার জন্য।

দান করুন: আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট বা বড় যেকোনো দান আমাদের কাজে শক্তি যোগায়। প্রতিটি টাকা সরাসরি অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়, কোনো মাঝখানের দেয়াল নেই, কোনো অস্বচ্ছতা নেই। ডোনেশন ফর্মে যান এবং আজই দান করুন

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন: টাকার চেয়েও মূল্যবান কখনো কখনো আপনার সময় ও শ্রম। ইফতার প্যাকেট বানান, শীতবস্ত্র বিতরণে মাঠে নামুন, বৃক্ষরোপণে হাত লাগান, প্রতিটি মুহূর্ত আপনার আমলনামায় লেখা হবে ইনশা আল্লাহ। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করুন

একটি জাল, অটুট বন্ধনে

আল আনকাবুত – মাকড়সা। অনেকে মনে করে মাকড়সার জাল দুর্বল। কিন্তু সেই জালে অসংখ্য সুতো মিলে এক অবিশ্বাস্য শক্তি তৈরি হয়। আমাদের প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক, প্রতিটি দানকারী, প্রতিটি শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষ একেকটি সুতো। আমরা সবাই মিলে যে জাল বুনি, সেটাই আমাদের শক্তি।

আসুন, একসাথে সেই জাল বুনি। মানুষের পাশে থাকি। আল্লাহ আমাদের সবার নিয়ত ও আমল কবুল করুন। আরও পড়ুন

সওয়াবের নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন

নগদ/বিকাশ পার্সোনাল 01700000000
ব্যাংক AC : 4567890-567890