বর্তমান যুগে অনলাইন জগৎ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, ইউটিউব, ব্লগ কিংবা মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই একজন মুসলমান প্রতিনিয়ত উপস্থিত। তাই প্রশ্ন আসে, ডিজিটাল দুনিয়ায় একজন মুসলমানের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? ইসলাম কি এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেয়?

নিশ্চয়ই দেয়। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের অনলাইন জীবনকেও আল্লাহভীতির আওতায় পরিচালিত করতে শিক্ষা দেয়।

অনলাইন জগৎ ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আজকের দিনে অনলাইন জগৎ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, পোস্ট শেয়ার এবং কমেন্ট করার মাধ্যমে অন্যদের সাথে যুক্ত হচ্ছি। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের মনে রাখা জরুরি ইসলামের দৃষ্টিতে অনলাইন জগৎ কোনো আলাদা বা দায়মুক্ত স্থান নয়। ইসলাম বাস্তব জীবন ও ভার্চুয়াল জীবনকে আলাদা করে দেখে না। অনলাইনে লেখা প্রতিটি কথা, শেয়ার করা প্রতিটি তথ্য এবং প্রকাশ করা প্রতিটি মতামতই মুসলমানের অনলাইন দায়িত্ব এর অন্তর্ভুক্ত।

কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষের প্রতিটি কথা ও কাজ আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত থাকে। বাস্তব জীবনের মতোই ডিজিটাল জগতে মুসলমানের দায়িত্ব হলো সততা, শালীনতা ও আখলাক বজায় রাখা।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

“মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত আছে, যে (লেখার জন্য) সদা প্রস্তুত।”  (সূরা ক্বাফ: ১৮)

অনলাইনে মুসলমানের মৌলিক দায়িত্ব

আজকের যুগে আমাদের অনেক সময় অনলাইনে কাটে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে। একজন মুসলমানের জন্য মনে রাখা জরুরি, অনলাইন কার্যক্রমও আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ। সততা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা হলো এই দায়বদ্ধতার মূল ভিত্তি। একজন মুসলমান তার অনলাইন আচরণে সততা বজায় রাখলে মিথ্যা, গুজব বা অন্যায় তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকে। দায়িত্ববোধ মানে নিজের কাজের প্রভাব বোঝা এবং অন্যদের ক্ষতি না করা। আর জবাবদিহিতা অর্থ পরকালের জন্য নিজের প্রতিটি ডিজিটাল কার্যকলাপের হিসাব রাখা।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।” (সূরা আল-তাওবা: ১১৯)

অনলাইন কথাবার্তা ও কমেন্টে ইসলামী শিষ্টাচার

আমরা প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম ও মেসেজিং অ্যাপে মতামত প্রকাশ করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে কমেন্ট, পোস্ট বা চ্যাটও আমাদের আমলের অংশ।

ইসলাম শুধু মুখে বা বাস্তব জীবনে আচরণ শিখায় না; ডিজিটাল কথাবার্তাও নৈতিকতার আওতায় পড়ে। প্রতিটি অনলাইন কথার মাধ্যমে আমরা অন্যকে উপকার বা ক্ষতি করতে পারি। তাই বিদ্রূপ, ট্রলিং, বা হেয় করার ভাষা ব্যবহার করা হারাম। ভিন্নমত থাকলেও ভদ্রতা, সদয়তা ও সহমর্মিতা বজায় রাখা অপরিহার্য। এটি অনলাইনে ইসলামী শিষ্টাচারের মৌলিক দিক, যা আমাদের মুসলমানের অনলাইন দায়িত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামী আচরণ এর মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সরল সঠিক কথা বল।” (সূরা আহযাব: ৭০)

ডিজিটাল যুগে গুজব ও ফিতনা রোধে মুসলমানের দায়িত্ব

অনলাইন জগৎ এমনভাবে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে, যেখানে একটি ছোট ভুল তথ্যও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায়, মেসেজিং গ্রুপে বা ফোরামে অনিরীক্ষিত খবর শেয়ার করলে, অনেক সময় মানুষ অজান্তে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য ছড়ানো এড়ানো এবং ফিতনা সৃষ্টি না করা। আমাদের উচিত জ্ঞান, শিক্ষা, দাওয়া বা সামাজিক কল্যাণমূলক বিষয় প্রচারের জন্য অনলাইন জগৎ ব্যবহার করা।এটি শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং ঈমানের অংশ।

গুরুত্বপূর্ণ হলো অনলাইনেও সত্যবাদিতা, সতর্কতা এবং নৈতিকতা বজায় রাখা। তাই যেকোনো পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ার করার আগে প্রশ্ন করুন:

১। এটি কি সত্য?

২। এটি কি কারও ক্ষতি করবে?

৩। এটি কি ন্যায় ও ঈমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

“হে মু’মিনগণ! কোন পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে, তাহলে তার সত্যতা যাচাই করে লও, তা না হলে তোমরা অজ্ঞতাবশতঃ কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসবে, অতঃপর তোমরা যা করেছ সেজন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে।” (সূরা হুজুরাত: ৬)

গোপনীয়তা, পর্দা ও আমানত

আমাদের অনেক সময় ব্যক্তিগত চ্যাট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন অনুমতি ছাড়া স্ক্রিনশট নেওয়া বা অন্যকে দেখানো কতটা গুরুতর হতে পারে!

ইসলামে এটি আমানতের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য। একজন সচেতন মুসলমানের জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করা, অন্যের তথ্যকে সম্মান দেওয়া এবং আমানত ঠিকভাবে রাখা অপরিহার্য। অনলাইনে একটি ছোট ভুলও সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে এবং সামাজিক ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শালীনতা, সতর্কতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

“হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও রাসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত করো না।” (সূরা আনফাল: ২৭)

ফিতনা ও ভাইরাল কনটেন্টে সতর্কতা

আজকাল ভাইরাল কনটেন্ট সহজেই মানুষের মনকে প্রভাবিত করতে পারে। কখনো এটি হাস্যকর, কখনো কারও সম্মানহানি করে, আবার কখনো সামাজিক ফিতনা তৈরি করে। একজন মুসলমানের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অনলাইনে সতর্ক থাকা এবং ফিতনা ও অপমানজনক বিষয় শেয়ার না করা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঢুকলেই দেখা যায়, কিছু মুসলিম একে অপরের নামে অনলাইনে বিদ্রূপ, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট তৈরি করছে। এটি ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এমন আচরণ নেইমশেইমিং, বিতর্ক সৃষ্টি এবং সামাজিক ফিতনার কারণ হয়।

ভাইরাল কনটেন্ট, গুজব বা ব্যঙ্গ কখনো কখনো মানুষকে অপমানিত করে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো অনলাইনে সতর্ক থাকা, মিথ্যা বা অপমানজনক কনটেন্ট শেয়ার না করা এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করা। এটি শুধু সামাজিক নৈতিকতা নয়, বরং ঈমানের অংশ।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 

“মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।” (সূরা হুজুরাত: ১১)

অনলাইনে নীরবতার গুরুত্ব

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা প্রতিনিয়ত মন্তব্য করি, পোস্ট করি বা বিতর্কে অংশ নিই। কিন্তু সব সময় কথা বলা প্রয়োজন নয়। প্রকৃতভাবে চুপ থাকা বা নীরব থাকা কখনো কখনো সবচেয়ে উত্তম আমল। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য, গুজব বা বিতর্ক থেকে নিজেকে বিরত রাখে, সে আল্লাহর কাছে সুরক্ষিত।

 অনলাইনে নীরবতা বজায় রাখলে আমরা-

        ১। সামাজিক ফিতনা ও বিভ্রান্তি কমাতে পারব

        ২। নিজের চরিত্র ও ঈমানের মান বজায় রাখতে পারব

.       ৩। অপ্রয়োজনীয় অপমান বা মানহানির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারব

একজন সচেতন মুসলমান জানে কখন মৌনতা তার নৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। সবসময় কথা না বলা, কখনো চুপ থাকা এটাই সঠিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত- 

“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সেই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে।” (সহিহ বুখারী : ১০)

অনলাইনে অমুসলিমদের দাওয়াহ

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির কারণে অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। নিজের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে তারা বিশ্বস্ত অনলাইন ইসলামী দাওয়াহ গাইডলাইন অনুসরণ করে সহজেই সঠিক পথ খুঁজে নিতে পারছে। এটি আমাদের জন্য একটি কল্যাণের সুযোগ তৈরি করেছে। সুতরাং, মুসলিমদের উচিত অনলাইনে সময় নষ্ট না করে ইসলামের সেবায় নিয়োজিত হওয়া। একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো ভদ্রতা, সতর্কতা এবং নৈতিকতা বজায় রেখে মানুষকে ইসলামের সত্যের সঙ্গে পরিচয় করানো।

অনলাইনে দাওয়াহ করার সময় নীচের বিষয়গুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ:

        ১। প্রতিটি তথ্য যাচাই করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহার কর
        ২। কথাবার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সহমর্মিতা বজায় রাখা অপরিহার্য
        ৩। কাউকে জোর করে ধর্মে আনা বা ব্যক্তিগত জায়গায় হস্তক্ষেপ করা হারা
        ৪। শিক্ষামূলক ও নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে পাঠককে পাঠানো যেতে পারে
        ৫। অনলাইনে কোনো ফিতনা বা অপমান সৃষ্টি না করা

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“জ্ঞান-বুদ্ধি আর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তুমি (মানুষকে) তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান জানাও আর লোকেদের সাথে বিতর্ক কর এমন পন্থায় যা অতি উত্তম। তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে গুমরাহ হয়ে গেছে। আর কে সঠিক পথে আছে তাও তিনি বেশি জানেন।” (সূরা আন-নাহল: ১২৫)

অনলাইনে সময় অপচয় ও আসক্তি: ইসলামী দৃষ্টিতে ভারসাম্য

আমরা প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও, গেম, চ্যাট ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করি। এতে কখনো শিক্ষামূলক বা প্রেরণামূলক বিষয় শিখতে পারি, আবার কখনো সময় নষ্ট ও আসক্তি তৈরি হয়। অনলাইনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা শুধু ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং ইসলামিক দায়িত্ব, প্রার্থনা, ও নেক আমল থেকেও মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়।

ইসলামে সময়কে মূল্যবান আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নেবেন। তাই অনলাইনে যে কোন কাজের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য, নৈতিকতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার মানুষকে সাহায্য করে:

১।দৈনন্দিন ইবাদত ও নেক আমল ঠিকভাবে পালন করতে

২। মানসিক শান্তি ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে

৩। ফিতনা, অপচয় ও অনৈতিক বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে

আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত-

“তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন বান্দার পদদ্বয় (কিয়ামাত দিবসে) এতটুকুও সরবে না, তাকে এ কয়টি বিষয় সম্পর্কে যে পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করা হবেঃ কিভাবে তার জীববনকালকে অতিবাহিত করেছে; তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কি আমল করেছে ; কোথা হতে তার ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে ও কোন কোন খাতে ব্যয় করেছে এবং কি কি কাজে তার শরীর বিনাশ করেছে।” (জামে’ আত-তিরমিজি : ২৪১৭)

ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা: দান, সহায়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং মানবিক সহায়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য শক্তিশালী সরঞ্জাম। সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, অ্যাপ এবং ডিজিটাল ফান্ডরেইজিংয়ের মাধ্যমে আমরা দারিদ্র্য, অসহায়তা বা দুর্যোগপ্রবণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে, মানবতার সেবা করা, দান দেওয়া এবং প্রয়োজনমন্দদের সাহায্য করা একজন মুসলিমের ঈমানের অংশ। ডিজিটাল মাধ্যমে এই কাজগুলো করা সহজ হলেও সতর্কতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

আল‑আনকাবূত ফাউন্ডেশন হলো একটি উদ্যোগ যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাজে মানবকল্যাণ, দান, সাহায্য এবং ইসলামের নৈতিক শিক্ষা প্রচার করে। এই ফাউন্ডেশন সামাজিক দায়বদ্ধতা, দান ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

আমাদের মূল কার্যক্রমগুলো হলো:

১। দারিদ্র্য ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো: আমরা অনলাইনের মাধ্যমে ত্রাণ, খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিই, যাতে যারা বিপদ বা দারিদ্র্যের মুখে আছে তাদের প্রয়োজন মেটানো যায়।

২। অনলাইন দান ও সাহায্যের কার্যক্রম পরিচালনা: Verified এবং নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দান ও সহায়তা সরবরাহ করি, যাতে প্রত্যেকটি সাহায্য সঠিকভাবে পৌঁছায়।

৩। যুব সমাজকে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে প্রেরণা দেওয়া: আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালাই, যাতে যুব সমাজ ইসলামের নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে সচেতন হয়।

৪। সামাজিক সচেতনতা ও কমিউনিটি বিল্ডিং: বিভিন্ন মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করি এবং মানুষকে একত্রিত করে একটি নৈতিক ও সহমর্মী কমিউনিটি গড়ে তুলি।

ডিজিটাল দুনিয়ায় দায়িত্বশীল মুসলমান হওয়ার আহ্বান

আজকের যুগে আমাদের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়া, চ্যাট, ব্লগ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাটে। এ পরিবেশে একজন মুসলমানের জন্য সচেতন, দায়িত্বশীল এবং নৈতিক আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম শিক্ষা দেয়, যে প্রত্যেক মুহূর্তের হিসাব আল্লাহর সামনে আছে। তাই অনলাইনে আমরা যা করি শেয়ার করি, মন্তব্য করি বা আলোচনা করি সবকিছুতে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।

দায়িত্বশীল মুসলমান হওয়ার মানে হলো:

১। সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা: মিথ্যা, গুজব বা অপমানজনক কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা।

২। সময়ের সঠিক ব্যবহার: অনলাইনকে শিক্ষামূলক ও নেক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা।

৩। সচেতনতা ও পরিমিতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখা।

৪। আমানত ও গোপনীয়তা রক্ষা করা: অন্যের তথ্য, ছবি বা ব্যক্তিগত বিষয় সম্মান করা।

দায়িত্বশীল অনলাইন ব্যবহার শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কল্যাণ নয়, বরং সমাজে শান্তি ও নৈতিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। একজন মুসলিম যখন অনলাইনে দায়িত্বশীল হয়, তখন সে নিজের ঈমান, চরিত্র এবং সমাজের কল্যাণ দুটোই রক্ষা করে।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।” (সূরা আল-আসর, আয়াত ১–৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *