
সময়ের স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এই সত্যকে সামনে রেখে সূরা আল-আসর আমাদের সময়ের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়। আধুনিক যুগে মানুষ যখন ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বর্তমানকে অবহেলা করে এবং তথাকথিত সফলতার পেছনে ছুটতে গিয়ে দিশেহারা হয়, তখন মাত্র তিনটি আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য সফলতার চূড়ান্ত রোডম্যাপ দিয়েছেন। সূরা আল-আসর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে মানুষ মূলত ক্ষতিগ্রস্ত, তবে চারটি শর্ত পূরণ করলে সে ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পেতে পারে। মানুষকে সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও পরীক্ষার মাঝে চলতে হবে,এটাই হলো আসল আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা। ইমাম শাফি (রহ.) এই সূরা সম্পর্কে বলেছিলেন, “মানুষ যদি কেবল এই একটি সূরা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করত, তবে তাদের ইহকাল ও পরকালের হেদায়েতের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।” সূরা আমাদের দেখায় ব্যর্থতা থেকে মুক্তির উপায়, ঈমান, সৎকর্ম, হকের উপদেশ এবং ধৈর্য। দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত সফলতা পেতে হলে সময়কে অবহেলা নয়, বরং সচেতনভাবে কাজে লাগানোই হলো সূরা আল-আসর-এর মূল শিক্ষা।
ইসলামে সময়ের গুরুত্ব: সূরা আসর ও জীবন পুঁজিতে সময়ের বরকত
সূরা আসরের প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা সময়ের কসম (মহাকালের কসম) খেয়ে এই সম্পদের অপরিসীম গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন। ইসলামি শরিয়তে আল্লাহ যখন কোনো কিছুর শপথ করেন, তখন সেটি মানুষের জন্য গভীর তাৎপর্য ও সতর্কবার্তা বহন করে। সময় কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি মানুষের জীবনের একমাত্র আসল মূলধন । একজন ব্যবসায়ীর মূলধন শেষ হলে যেমন ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যায়, তেমনি মানুষের জীবন থেকে সময় ফুরিয়ে গেলে পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহের সব সুযোগও শেষ হয়ে যায়।
আধুনিক জীবনে আমরা প্রায়ই সময়ের অভাবে অভিযোগ করি, কিন্তু প্রকৃত সমস্যা সময়ের স্বল্পতা নয়, বরং সময়ের বরকত হারানো। সময় হলো বরফ বিক্রেতার সেই বরফের মতো, যা মুহূর্তেই গলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মুমিনের প্রতিটি সেকেন্ড যেন জান্নাতের একটি বীজ। যে ব্যক্তি তার সময়কে অবহেলায় হারালো, সে যেন নিজের অমূল্য সম্পদ নষ্ট করলো। প্রকৃত মুমিন তো সেই, যে সময়ের প্রতিটি কদমকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।
সময়ের অপচয় ও জীবনের মহাক্ষতি: সময়ের অদৃশ্য ক্ষয় থেকে বাঁচার উপায়
সূরা আসরের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তাআলা এক কঠোর ও অমোঘ সত্য ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।” (সুূরা আসর: ২)। এখানে ‘ক্ষতি’ বলতে কেবল পার্থিব বা ব্যবসায়িক লোকসানকে বোঝানো হয়নি, বরং এটি আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের ব্যর্থতা বা জান্নাত থেকে বিচ্যুত হওয়ার মহাক্ষতি। আমরা যখন ক্যারিয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স আর দুনিয়ার চাকচিক্যে মত্ত থাকি, তখন ভুলে যাই যে আমাদের অমূল্য সময় নীরবে প্রবাহিত হচ্ছে।
জীবন মূলত একটি গলিত বরফের মতো, যা প্রতি মুহূর্তে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আমরা বড় হচ্ছি মানেই হলো আমরা মৃত্যুর দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছি। এই অদৃশ্য ক্ষয়ই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যখন সময় শেষ হয়ে যাবে, তখন পার্থিব কোনো অর্জনই কাজে আসবে না। সূরা আসর আমাদের এই সতর্কবার্তাই দেয় যে, জীবনকাল একটি পবিত্র আমানত। এই সর্বজনীন ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে সময়ের প্রতিটি সেকেন্ডকে পরকালের পাথেয় হিসেবে কাজে লাগানোই হলো প্রকৃত মুক্তি।
সফলতার ৪টি শর্ত: ব্যর্থতা থেকে বাঁচার উপায়
আল্লাহ তায়ালা সূরা আসরের শেষ আয়াতে ৪টি গুণের কথা বলেছেন। এই গুণগুলো যার মধ্যে থাকবে, সে কখনোই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটিই হলো কুরআনের আলোকে সফলতার উপায়।
ক. ঈমান (সঠিক বিশ্বাস)
সফলতার প্রথম ভিত্তি হলো ঈমান। ঈমান মানে কেবল মুখে স্বীকার করা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে আল্লাহ, পরকাল এবং ওহীর বিধানকে বিশ্বাস করা। ঈমানহীন জীবন হলো কম্পাসহীন জাহাজের মতো। এটি মানুষকে নৈতিকতার ভিত্তি দান করে এবং প্রতিটি কাজের পেছনে একটি মহৎ উদ্দেশ্য তৈরি করে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন:
মু’মিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে, আর তাদের কাছে যখন তাঁর আয়াত পঠিত হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে। (সূরা আল-আনফাল: ২)
খ. নেক আমল (সৎ কাজ)
ঈমানের বাস্তব প্রতিফলন হলো নেক আমল। ইসলামিক জীবনদর্শন অনুযায়ী, বিশ্বাস এবং কর্ম একে অপরের পরিপূরক। কেবল “আমি মনে মনে ভালো” বললে সফল হওয়া যাবে না; বরং কর্মে তার প্রমাণ দিতে হবে। নামাজ, রোজা, হালাল উপার্জন, মা-বাবার সেবা এবং মানুষের উপকার করা সবই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। সময়ের সঠিক ব্যবহারের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রতিটি মুহূর্তকে কোনো না কোনো নেক আমলে ব্যস্ত রাখা।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন:
পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে সৎকাজ করবে আর সে ঈমানদারও বটে, তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের প্রতি তিল পরিমাণও অন্যায় করা হবে না। (সূরা আন-নিসা:১২৪)
গ. হকের উপদেশ (সত্যের পথে আহ্বান)
সফলতার জন্য কেবল নিজে ভালো হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যকেও ভালো কাজের দিকে ডাকা জরুরি। একেই বলা হয়েছে ‘হকের উপদেশ’। সমাজ যখন পচে যায়, তখন আপনি একা ভালো থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন না। তাই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের পথে ডাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এটিই সামাজিক সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন:
মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে (ডুবে) আছে, কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়। (সূরা আল-আসর:২-৩)
ঘ. সবর বা ধৈর্যের উপদেশ
সত্যের পথে চলতে গেলে বাধা আসবেই। কখনো দারিদ্র্য, কখনো রোগ-বালাই আবার কখনো মানুষের সমালোচনা আপনাকে থামিয়ে দিতে চাইবে। এই অবস্থায় প্রয়োজন সবর বা ধৈর্য। সবর মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং প্রতিকূলতার মাঝেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে সঠিক পথে টিকে থাকা। একে অপরকে ধৈর্যের পরামর্শ দেওয়া একটি কমিউনিটি হিসেবে আমাদের শক্তিশালী করে তোলে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন:
হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন কর, মুকাবিলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন কর এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় করে চল, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আলে ইমরান: ২০০)
সূরা আসর: ক্যারিয়ার ও সফলতার ঐশী ফর্মুলা
ইমাম শাফিঈ (রহ.) সূরা আসরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘যদি মানুষ কেবল এই একটি সূরা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করত, তবে হেদায়েতের জন্য এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।’ সুবহানাল্লাহ! আজ আমরা যাকে ‘Modern Personal Development’ বলছি, তার প্রতিটি শাশ্বত মূলনীতি মহান আল্লাহ এই ছোট্ট সূরার মাঝে ১৪০০ বছর আগেই গেঁথে দিয়েছেন। এটি কেবল একটি সূরা নয়, বরং সফলতার এক ঐশী ম্যানিফেস্টো।
অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সময়ের মূল্য
সূরা আসর সময়ের শপথ দিয়ে শুরু হয়েছে, যা আমাদের শেখায় জীবনের অগ্রাধিকার ঠিক করা। আমরা প্রায়ই অহেতুক কাজে সময় নষ্ট করি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন:
“আর যেদিন তাদেরকে সমবেত করা হবে, যেন তারা অবস্থান করেনি, তবে দিনের একদন্ড একজন অপরজনকে চিনবে। নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে এবং সরলপথে আসেনি।” (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৫)
ক্যারিয়ারের ব্যস্ততায় আমরা যেন মূল লক্ষ্য (আখেরাত) ভুলে না যাই। সফল তারাই, যারা সময়ের সীমাবদ্ধতা বুঝে অগ্রাধিকার ঠিক করে।
প্রোডাক্টিভিটি বনাম ব্যস্ততা
ব্যস্ত থাকা মানেই সফল হওয়া নয়। যদি সেই ব্যস্ততা ‘নেক আমল’ বা উৎপাদনশীল না হয়, তবে তা ব্যর্থতা। কুরআনে বলা হয়েছে:
“যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমাণদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরষ্কার দেব যা তারা করত।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৭)
আপনার কাজগুলো যদি ঈমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তা কেবল ‘ক্ষতি’। প্রকৃত প্রোডাক্টিভিটি হলো প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।
ভিশনারি থিংকিং ও লক্ষ্যস্থির করা
একজন মুমিন কেবল বর্তমান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বা অনন্তকালের কথা ভাবে। এটিই হলো আসল Visionary Thinking। আল্লাহ বলেন:
“হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকেই চিন্তা করে দেখুক, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।” (সূরা হাশর, আয়াত: ১৮)
আপনার ক্যারিয়ারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্যের সাথে মিল থাকে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও লিডারশিপ
সূরা আসর আমাদের শেখায় অন্যকে ‘হকের উপদেশ’ দিতে। ইসলাম একা ভালো হওয়ার নাম নয়। সমাজ সংস্কারে নেতৃত্ব দেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ বলেন:
“তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানবজাতির (সর্বাত্মক কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভুত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর ও আল্লাহর প্রতি ঈমান রক্ষা করে চল। যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তাহলে নিশ্চয়ই তাদের জন্য ভাল হত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মু’মিন এবং তাদের অধিকাংশই ফাসেক।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১০)
মানসিক প্রশান্তি ও রেজিলিয়েন্স
আধুনিক জীবনে ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ‘সবর’ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়ে বলেন:
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।” (সূরা আলাম নাশরাহ: ৫)
সত্যের পথে বাধা আসবেই। সেই প্রতিকূল অবস্থায় হাল না ছেড়ে ধৈর্য ধারণ করাই হলো প্রকৃত সফলতা। যারা ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয়, তাদের মানসিক প্রশান্তি কেউ কেড়ে নিতে পারে না।
সময়ের ব্যবস্থাপনা: সূরা আসর থেকে কুরআনিক শিক্ষা
আজকের মানুষ সবচেয়ে বড় অভিযোগ করে- “আমার সময় নেই।” কিন্তু সত্যি কথা হলো, সময়ের অভাব আমাদের সমস্যার মূল নয়। প্রকৃত সমস্যা হলো অগ্রাধিকারের ভুল। সূরা আসর এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, মানুষ তার সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করে, আল্লাহর পথে ব্যয় করে এবং অহেতুক কাজ থেকে বিরত থাকে, সে সফল। অন্যরা যতই ব্যস্ত থাকুক, যদি তাদের কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়, সবই শেষ পর্যন্ত ক্ষতি ছাড়া কিছুই নয়।
সকালকে কাজে লাগানো: ভোরবেলা আল্লাহর বরকত সবচেয়ে বেশি। রাসুল (সা.) আমাদের শেখিয়েছেন ভোরের সময়কে কাজে লাগাতে। সকাল যদি ইবাদত, পাঠ, এবং ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে শুরু হয়, পুরো দিনই সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ হয়। ভোরের ঘুম ত্যাগ করা, ফজরের নামাজ আদায় করা এবং দিন শুরু করা শুধু আত্মিক বৃদ্ধিই দেয় না, বরং আমাদের সময় ব্যবস্থাপনাতেও শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।
অহেতুক কাজ ত্যাগ করা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করা, গীবত করা বা অনর্থক কথাবার্তা- এসবই আমাদের মূল্যবান সময় নষ্টের অন্যতম বড় কারণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ ধরনের কাজকে ‘লাগওয়’ (লাআওয়)’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা নিত্যদিনের জীবনে এড়িয়ে চলা উত্তম। যে কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নয়, তা আমাদের ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অহেতুক কাজগুলো সীমিত বা ত্যাগ করতে হবে।
মৃত্যুকে স্মরণ করা: মৃত্যুকে মনে রাখা মানে জীবনের শেষের দিকে মন দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করা। প্রতিদিন অন্তত একবার ভাবুন- “আজই যদি আমার শেষ দিন হয়, আমি কী করেছি?” এই চিন্তা আমাদের কাজকে উদ্দেশ্যমূলক করে তোলে এবং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারে সাহায্য করে।
উপসংহার: প্রকৃত সফলতার পথে আমাদের যাত্রা
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের যাপিত জীবনে সফলতার সংজ্ঞা কেবল একটি উচ্চতর ডিগ্রি, বিলাসবহুল গাড়ি বা ব্যাংক ব্যালেন্সের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সফলতা হলো সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মানবতার কল্যাণে ব্যয় করা।
সূরা আসরের সেই চিরন্তন সত্য আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, ঘড়ির কাঁটা থেমে নেই এবং আমাদের সুযোগ ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। মহাকালের এই স্রোতে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা থেকে মুক্ত রাখতে হলে আমাদের জীবনের ভিত্তি হতে হবে চারটি স্তম্ভের ওপর:
- দৃঢ় ঈমান: যা আমাদের অন্তরে প্রশান্তি জোগাবে।
- নেক আমল: যা আমাদের কর্মকে অর্থবহ করবে।
- সত্যের দাওয়াত: যা সমাজে ইনসাফ কায়েম করবে।
- ধৈর্য ও সহনশীলতা: যা প্রতিকূলতায় আমাদের অবিচল রাখবে।
আমরা যদি এই চারটি গুণকে জীবনের পাথেয় করতে পারি, তবেই আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন পরকালীন চিরস্থায়ী সফলতায় রূপ নেবে। অন্যথায় পৃথিবীর সমস্ত বৈভব থাকলেও দিনশেষে আমরা একজন পরাজিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ হিসেবেই গণ্য হব। তাই আসুন, সময়ের কদর করতে শিখি এবং সূরা আসরের শিক্ষাকে ধারণ করে নিজের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলি। আরও পড়ুন