সহীহ হাদিসের গুরুত্ব ও কেন তা অপরিহার্য?

ইসলামে সহীহ হাদিস-এর গুরুত্ব অপরিসীম। সহীহ হাদিস বলতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই বাণী, কাজ বা অনুমোদিত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত শুদ্ধ বিবরণকে বোঝানো হয়। ইসলামী শরিয়তের মূল ভিত্তি হলো কুরআন এবং সহীহ হাদিস। হাদিস ছাড়া ইসলামী জীবনযাপন, ইবাদত ও সামাজিক ব্যবস্থার সঠিক রূপ অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

সহীহ হাদিসের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
সহীহ হাদিস মানে এমন বর্ণনা যা নির্ভরযোগ্য রাবিদের মাধ্যমে প্রমাণিত, সনদে ছিদ্রহীন, এবং যার মধ্যে কোনো সন্দেহ বা দুর্বলতা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“তোমরা আমার পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দাও, ولو آية (একটি আয়াত হলেও)।” (বুখারী: ৩৪৬১)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সহীহ হাদিস ছাড়া ইসলামের সঠিক শিক্ষা সংরক্ষণ করা অসম্ভব। কারণ সহীহ হাদিসই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত শিক্ষার ধারক ও বাহক।

কুরআন ও সহীহ হাদিসের সম্পর্ক
কুরআন হচ্ছে আল্লাহর বাণী, আর সহীহ হাদিস সেই বাণীর বাস্তব ব্যাখ্যা। মহানবী (সা.)-এর জীবনের মাধ্যমে কুরআনের বিধান কিভাবে পালন করতে হবে তা আমরা সহীহ হাদিসের মাধ্যমেই জানতে পারি। আল্লাহ বলেন:

“যারা রাসুলের অনুসরণ করে, যিনি তাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের সংশোধন করেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।” (সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৭)

ইসলামী ফিকহে সহীহ হাদিসের অবদান
ইসলামী ফিকহ বা আইনের ক্ষেত্রে সহীহ হাদিসের ভূমিকা অপরিহার্য। যেমন:

সালাতের পদ্ধতি

রোযার মাসায়েল

হজের নিয়মাবলী

বাণিজ্য ও লেনদেনের আদবকায়দা

পারিবারিক আইন

এসব বিষয়ে কুরআনের নির্দেশনা হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

সহীহ হাদিস সংকলনের ইতিহাস
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর সাহাবীগণ হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং লিখে সংরক্ষণ করতেন। পরবর্তীতে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি, ইমাম আবু দাউদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ সহীহ হাদিস সংকলন করেন। এতে ইসলামের নির্ভুল শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে গেছে।

সহীহ হাদিস শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
একজন মুসলমানের জন্য সহীহ হাদিস অধ্যয়ন করা জরুরি। কারণ এর মাধ্যমেই সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত আদর্শ জানতে পারে এবং নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“আমি তোমাদের মাঝে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি; তোমরা যতদিন তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না — তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” (মুয়াত্তা মালিক: ১৬০১)

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. সহীহ হাদিস কী?
সহীহ হাদিস হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য বাণী ও কাজের বিবরণ।

২. কেন সহীহ হাদিস গুরুত্বপূর্ণ?
সহীহ হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং ইসলামী শরিয়তের নির্ভুল দিকনির্দেশনা দেয়।

৩. সহীহ ও জইফ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য কী?
সহীহ হাদিস নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণিত, আর জইফ হাদিসে সনদগত দুর্বলতা থাকে।

৪. ইসলামী আইন প্রণয়নে সহীহ হাদিসের ভূমিকা কী?
ইসলামী ফিকহ, ইবাদত, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে সহীহ হাদিস মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

৫. সহীহ হাদিস সংকলন কখন শুরু হয়েছিল?
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ সংকলন সাহাবা ও তাবেয়ীনদের পরবর্তী যুগে হয়।

উপসংহার
সহীহ হাদিস ইসলামের ভিত্তি ও নির্দেশনার অন্যতম প্রধান উৎস। ইসলামী জীবনযাপন, নৈতিকতা, ইবাদত ও সামাজিক সম্পর্কের সঠিক রূপ সহীহ হাদিসের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো সহীহ হাদিস জানার চেষ্টা করা, শেখা ও সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top